Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

শিরোনাম
সিতেশ দেবের চিড়িয়াখানা ও দেশের একমাত্র সাদা বাঘ
স্থান

শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের একটি দ্বিতল বাড়ি । এটিই সিতেশ রঞ্জন দেবের বাসা । রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের পাশেই অবস্থিত এই বাড়িটিতেই সিতেশ বাবু তৈরি করেছেন তার মিনি চিড়িয়াখানাটি । বাসার বামপাশে দিয়ে ছোট একটি টিনের গেটের ভেতর দিয়ে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে হয় ।

বিস্তারিত

সিতেশ রঞ্জন দেবের মিনি চিড়িয়াখানাটি তাঁর বাসার ভিতরেই। বাসার বামপাশে দিয়ে ছোট একটি টিনের গেটের ভেতর দিয়ে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে হয় । চিড়িয়াখানায় প্রবেশমাত্রই শুরু রাস্তায়ই চোখ পড়বে গুঁইসাপ ! দেখবেন আপনার দিকে তেড়ে আসছে। অবশ্য চমকে ওঠার কোনো কারণ নেই , খাঁচার মধ্যেই রাখা হয়েছে জীবটিকে । কুমির আকৃতির এই গুঁইসাপের বৈশিষ্ট হলো মুখ দিয়ে থুথু ছুড়ে মারা । এরপরই চোখে পড়বে একটি মেছো বাঘ । এক সময় প্রচুর পরিমাণে শ্রীমঙ্গলে দেখা যেতো এই বাঘ । আর একটু এগিয়ে বামে তাকালেই চোখে পড়বে রঙের বর্ণচ্ছ্বটা আর কানে আসবে কিচিরমিচির শব্দ । বিরল প্রজাতির এই পাখিগুলো দেখে যেকেউই  বিস্ময়াভূত হবেন । এই পক্ষীকুলের ভেতর থেকে হঠাৎ বাংলা কথা শোনা গেলে অবাক হবেন না , ওটা সিতেশ বাবুর ময়নার ডাক ! সিতেশ দেবের চিড়িয়াখানাটিতে রয়েছে জংলী রাজহাঁস, চখা , সরলী , রাজ সরলী , চা পাখি , ধনেশ , হরিয়াল , সবুজ ঘুঘু , বনমোরগ , ডাহুক , জল কবুতর , নীল গলা বসন্ত বৌরি , তিলা ঘুঘু ও তিতির , ময়না , টিয়া , তোতা , পাহাড়ি বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি । এরপর দেখবেন সোনালি কচ্ছপ । যারা আগে কখনো সোনালি কচ্ছপ দেখেননি , নিঃসন্দেহে তাদের কাছে এই কচ্ছপটি বিস্ময়কর মনে হবে । এই সোনালি কচ্ছপের বৈশিষ্ট্য হলো এটি গাছে চড়তে পারে । সোনালি রঙের এই প্রানিটি ফল খায়, গাছে চড়ে । ছোট্ট এই চিড়িয়াখানার আরেক আকর্ষণ উড়ান্ত কাঠবিড়ালী । নিতান্তই নিরীহ গোছের এই প্রাণীটি এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ৩০০ থেকে ৪০০ফুট দূরে ডানা মেলে উড়ে যেতে পারে । উড়ন্ত অবস্থায় এদের শরীরের চমড়া ছড়িয়ে পড়ে ডানার আকৃতি  নয়ে । কিন্তু চিড়িয়াখানায় বাঘ থাকবে না তা কি হয় ? অতএব এবার বাঘ দর্শন । তাও আবার যে সে বাঘ নয় , সাদা বাঘ । এই প্রজাতির বাঘ বাংলাদেশে আর কোথাও নেই । পুরু শরীরের দুধের মতো সাদা প্রশমে আবৃত বিরল এ বাঘটি নিমিশেই তার চোখের রং পাল্টাতে পারে বাঘ যখন আপনি দেখবেন আচমকাই বাঘটির জন্য আপনার মায়া হবে । মুখ দিয়ে বাঘটির দিকে একটু ফুঁ দিলেই সাপের মত পুস করে উঠবে আপনার দিকে। চিড়িয়াখানার বাম দিকে রয়েছে মায়া হরিণের দল আদর করতে ইচ্ছে হলে খাঁচার ভিতর হাত বাড়িয়ে দিন । দেখবেন হরিণগুলো এসে তার জিহবা দিয়ে আপন মনে আপনার হাত স্পর্শ করে দিচ্ছে । একটি প্রানী আপনাকে আদর করে দিচ্ছে ভাল নালেগে কি পারে । মায়া হরিণের পরেই রয়েছে ভাল­ুকের খাঁচা এখানে রয়েছে দু’টি ভাল­ুক এদের সারা শরীর কালো গলায় রয়েছে সাদা ভিআকৃতির দাগ জংগলের হিংসপ্রাণী হলেও চিড়িয়াখানায় এ ভাল­ুক দু’টি প্রায়ই খাঁচা থেকে বেড়িয়ে আসে সিতেশ বাবু ও তার ছেলেদের সাথে বাসার ভিতরেই হাঁটা চলা করে কখন হাত ধরে কখন কাধে চড়ে । আবার প্রায় সময় তার কুকুরের সাথে খেলাও করে । চিড়িয়াখানায় এক কোনে রয়েছে অজগরের অবস্থান । এখানে রয়েছে এক জোড়া অজগর ফেরার আগে অবশ্যই অজগর গুলোকে দেখে যাবেন । কারণ এই অজগর গুলো পাঁচ বছর আগে এখানেই ৩৮টি ডিম পেড়েছিল । সে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটেছিল পরবর্তীতে বাচ্চাগুলোকে লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত করা হয় । এরপর পরই রয়েছে পুরু শরীর জোড়া  কাঁটা আবৃত সজারু,  হিমালয়ান পাম্প সিভিট, রয়েছে সাদা ডুরাকাঁটা সোনালী বাঘ, প্রায় শতাধিক রাজকীয় পায়রা ও লম্বা লেজওয়ালা হনুমান । প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা এবং বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবার জন্য চিড়িয়াখানা উন্মুক্ত থাকে । চিড়িয়াখানায় প্রবেশের জন্য কোন ফির প্রয়োজন নেই । তবে যাওয়ার সময় যদি হাতে সময় থাকে তাহলে কথা বলে যেতে পারেন চিড়িয়াখানার পরিচালক সিতেশ বাবুর সাথে। জানতে পারেন তাঁর  দূর্ধর্ষ শিকারী জীবনের কাহিনী ।